কালো বিন্নি চালের পুষ্টি গুন ও উপকারীতা এবং ভাত রান্নার রেসিপিঃ
কালো চাল ক্যানসাররোধী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ। অ্যান্টিঅক্রিডেন্ট ফ্লাভিনয়েড যা অ্যানথোসায়ানিন নামে পরিচিত তা এই কালো চালে খুব বেশি পরিমাণে থাকাতেই চালের রঙ কালো হয়েছে। আর কালো চালে এ উপাদানটি থাকার কারণেই ক্যানসার,
হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্নায়ূরোগ এমনকি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ প্রতিহত করতে পারে । সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ধমনীতে রক্ত চলাচল যেসব কারণে বাঁধাগ্রস্ত হয়, কালো চালের উপাদান তা হতে দেয় না। ফলে হাই ব্লাড প্রেসার হয় না। ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।
এই চালে আয়রণ বেশি কিন্তু শর্করা কম। কালো চালে যেসব পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা হল- ক্যালরি ১৭০, ফ্যাট ১.৫ গ্রাম (৩%), কার্বোহাইড্রেট ১১%, আঁশ ৫%, ভিটামিন এ ২%, আয়রণ ৬%।
কালো বিন্নি চালে রয়েছে ফাইবার, আয়রন, ফসফরাস ও জিংক। এই চালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টি অক্সিডেন্ট যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
এন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ার ফলে ক্লান্তি ও অস্থিরতা দুর করে। কোলন ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার ও লিউকেমিয়ার প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে। হার্ট ও বাতব্যাথা দুর করতে সাহায্য করে। অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধে সহয়তা করে।
প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে হার্ট সুস্থ্য রাখে, রক্ত চাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিকস ও ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।
আমাদের শরীরকে ডি-টকসিফাই করে এবং লিভার, কিডনি ফাংশন ও বিভিন্ন অরগ্যান সিস্টমকে সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করে।
এটি হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া ও বমি বমি ভাব দুর করতে সাহায্য করে।
এই চালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বহাইড্রেট যা আমাদের শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
কালো বিন্নি রান্না করার নিয়মঃ
ঠান্ডা পানি দিয়ে চাল ভালো ভাবে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর দুই কাপ চালে পাঁচ কাপ পানি ও আধা চা চামচ গোল মরিচ এবং লবণ দিয়ে সিদ্ধ করতে হবে।
চাল ও পানি ফুটে উঠলে চুলার জ্বাল কমিয়ে অল্প আঁচে রান্না করতে হবে। ভাত রান্না হয়ে গেলে ঠান্ডা করে অথবা গরম গরম পরিবেশন করুন।